You are here

The reason for swinging the full moon

Submitted by lotus bee on Fri, 03/15/2019 - 09:45

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোলযাত্রা । এই উ‍ৎসব পালনের রীতিনীতি স্থান ভেদে আলাদা হলেও উৎসবের মূল উদ্দেশ্যে নেই কোনো ভিন্নতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের –“রাঙ্গিয়ে দিয়ে যাও যাও গো এবার যাবার আগে” গানের কথাতেই যেন দোলযাত্রার মূল উদ্দেশ্য ফুটে ওঠে। ভারতে বিভিন্ন জায়গায় এই উৎসবকে ‘হোলি’ বলা হয়। আবার এই একই উৎসবকে কোন জায়গায় বলা হয় ‘বসন্তোৎসব’।

শান্তিনিকেতনে বসন্ত ঋতু আগমনকে ঘিরে আয়োজন করা হতো নাচ-গান, আবৃত্তি ও নাট্য অভিনয়। শান্তিনিকেতনের এই উৎসবটিই হল বসন্তোৎসব। দোলপূর্ণিমার দিনেই শান্তিনিকেতনে আয়োজন করা হত বসন্ত উৎসব। ফাল্গুনের ওই একই দিনে একই তিথিতে আয়োজিত হয় দোলযাত্রা।

ভারতের বাইরে বাংলাদেশে এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’ বা ‘দোলপূর্ণিমা’ নামে অভিহিত করা হয়। দোলযাত্রা মূল হিন্দু এবং বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণবদের বিশ্বাস মত অনুযায়ী এই দিনে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলায় মত্ত হয়েছিলেন। সেই সময়কার ঘটনা থেকেই দোল খেলার আবির্ভাব হয়েছে। এই কারণে দোলযাত্রার পূর্ণিমা তিথিতে রাধাকৃষ্ণকে আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চাপিয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এই সময় নিজেদের মধ্যে তারা রং খেলার মেতে ওঠেন। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য।
এর জন্যই এই তিথিকে ‘গৌরপূর্ণিমা’ও বলা হয়ে থাকে। হিন্দু সন্ন্যাসী এবং ষোড়শ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু । তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ায় জেলায়। তিনি প্রধানত রাধা ও কৃষ্ণ রূপে ঈশ্বরের পূজা প্রচারিত করেন এবং ‘হরে কৃষ্ণ’ মন্ত্রটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।

দোলপূর্ণিমার দিনে শ্রীকৃষ্ণেরই পূজা করা হয়। এবং ভক্তগণ মেতে ওঠে রং খেলায়। এই উৎসবের পেছনে রয়েছে নানা পৌরাণিক লোক কাহিনী। প্রধান হল ‘হোলিকা দহন’। এর থেকেই ‘হোলি’ কথাটির আবির্ভাব হয়েছে। পশ্চিমবাংলায় আমরা বলি ‘দোলযাত্রা’ আর পশ্চিম ও মধ্যভারতে দিকে এই উৎসব ‘হোলি’ নামে পরিচিত।
https://progotirbangla.com/swing-purnima-dol-purnima-spring-festival-of-...